*স্পোর্টস ডেস্ক:* ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন একদিনের সিরিজ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় দল। চোট ও ফিটনেস সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সিরিজের জন্য দলে জায়গা পেলেন না তারকা অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া। বিসিসিআই সূত্রে খবর, এখনও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় তাঁকে নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট।
দীর্ঘদিন ধরেই ফিটনেসের সঙ্গে লড়াই করছেন হার্দিক। আইপিএল ২০২৬-এ মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলতে গিয়ে পিঠের চোটে আক্রান্ত হন তিনি। সেই চোটের পর থেকেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় অলরাউন্ডার। বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অব এক্সেলেন্সে তাঁর রিহ্যাব চলছিল এবং ধীরে ধীরে অনুশীলনেও ফিরেছিলেন।
সূত্রের খবর, রিহ্যাবের অংশ হিসেবে সম্প্রতি দীর্ঘ স্পেল বোলিংও করেন হার্দিক। এমনকি একটানা ১০ ওভার বলও করেন তিনি। সেই কারণে অনেকেই মনে করেছিলেন, ইংল্যান্ড সিরিজে হয়তো জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন ঘটতে চলেছে তাঁর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনায় জল ঢেলে দেয় নতুন চোট।
জানা গিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতেই কোয়াড্রিসেপস পেশিতে সমস্যা দেখা দেয় হার্দিকের। এই চোটের কারণেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ থেকেও তাঁকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল। চিকিৎসক এবং ফিজিওদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এখনও তিনি ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিত বোলিংয়ের চাপ নেওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছতে পারেননি।
ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের মতে, হার্দিকের ফিটনেসকে কেন্দ্র করে কোনও তাড়াহুড়ো করা হবে না। কারণ, সামনের বছরগুলিতে ভারতের একদিনের পরিকল্পনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি। বিশেষ করে ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে তাঁকে ধীরে ধীরে পুরোপুরি ম্যাচ ফিট করে তোলার দিকেই জোর দিচ্ছে বোর্ড।
এবারের আইপিএলেও চোটের কারণে একাধিক ম্যাচ খেলতে পারেননি হার্দিক। মাঝপথে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার পর শেষদিকে দলে ফিরলেও পুরো মরশুম জুড়েই শারীরিক সমস্যায় ভুগেছেন তিনি। ফলে ইংল্যান্ড সফরের আগে নির্বাচকদের নতুন করে বিকল্প অলরাউন্ডার খুঁজতে হচ্ছে।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্দিকের অনুপস্থিতি ভারতের জন্য বড় ধাক্কা। ব্যাট হাতে ফিনিশারের ভূমিকা, মাঝের ওভারে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা এবং পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে দলের ভারসাম্য রক্ষায় তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাঁকে ছাড়া সঠিক দলগঠন করা নির্বাচকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সম্প্রতি প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, হার্দিকের ক্ষেত্রে বোর্ড অত্যন্ত সতর্ক নীতি গ্রহণ করেছে। তাঁর কথায়, জসপ্রীত বুমরার মতোই হার্দিককেও দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁকে বিশ্রাম ও রোটেশনের মধ্যে রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্টগুলিতে তিনি শতভাগ ফিট অবস্থায় মাঠে নামতে পারেন।
সব মিলিয়ে, ইংল্যান্ড সিরিজে হার্দিককে না পাওয়া ভারতীয় দলের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে কবে আবার নীল জার্সিতে মাঠে ফেরেন এই তারকা অলরাউন্ডার।