*অযোধ্যা:* অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দান করা মূল্যবান সামগ্রী সংরক্ষণ ও হিসাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তদন্ত চলাকালীন উঠে এসেছে, মন্দিরে দান করা প্রায় ৬০ কেজি রুপোর বারের কোনও স্পষ্ট নথি বা বর্তমান অবস্থান এখনও পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রের দাবি, রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্বর্ণকারদের উদ্যোগে বিপুল পরিমাণ রুপোর বার দান করা হয়েছিল। সেই রুপো মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর নির্মাণে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল বলে জানা যায়। তবে পরবর্তী সময়ে ওই রুপোর ব্যবহার বা সংরক্ষণ সংক্রান্ত কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গত কয়েকদিন ধরে মন্দিরে দানসামগ্রী গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারী দল দানসামগ্রীর হিসাব-নিকাশ এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক যাচাই করছে।
যে সংগঠনের পক্ষ থেকে রুপোর বার দান করা হয়েছিল, তাদের দাবি, দানের রসিদ ও প্রয়োজনীয় নথি তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। সংগঠনের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, দান করা রুপোর বারগুলি ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়নি এবং পরবর্তীকালে সেগুলির আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
তদন্তের স্বার্থে মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি এবং দানসামগ্রী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টদের কেউই নিখোঁজ সামগ্রীর বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, মন্দিরে দান করা কিছু মূল্যবান অলঙ্কার ও সামগ্রীর পরিবর্তে নকল বস্তু রাখা হয়েছে এবং নগদ অনুদানের একটি অংশ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
উত্তরপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। এই দলে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের আধিকারিকরা রয়েছেন। তাঁরা গোটা বিষয়টির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দানসামগ্রী সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, ট্রাস্টের অনুরোধেই তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তাঁর দাবি, তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।