নয়াদিল্লি: কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে তথা প্রাক্তন কংগ্রেস নেত্রী শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, মাঠে-ময়দানে কয়েকদিন সক্রিয় থাকার পরই দীর্ঘ সময়ের জন্য জনসমক্ষে অনুপস্থিত হয়ে যান রাহুল, যা একজন পূর্ণকালীন রাজনীতিকের ক্ষেত্রে কাম্য নয়।
এক সাক্ষাৎকারে শর্মিষ্ঠা বলেন, রাজনীতি কোনও খণ্ডকালীন কাজ নয়। মানুষের পাশে থাকতে হলে বছরজুড়ে, প্রতিদিন সক্রিয় থাকতে হয়। শুধু কিছু কর্মসূচি, সভা বা পদযাত্রা করে আবার দীর্ঘ সময়ের জন্য আড়ালে চলে গেলে রাজনৈতিক সংগঠনকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শর্মিষ্ঠার মতে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৯৯টি আসন পেলেও দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি স্বীকার করেন, ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ কংগ্রেসের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তবে সেই গতি ধরে রাখতে না পারাই দলের অন্যতম ব্যর্থতা।
তিনি আরও দাবি করেন, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই জোট রাজনীতির উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। দলীয় সংগঠনকে বুথস্তর থেকে মজবুত করার পরিবর্তে জোটের অঙ্কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে একার শক্তিতে নির্বাচনী লড়াইয়ে সাফল্য অর্জনের মানসিকতা দল হারিয়ে ফেলেছে বলে তাঁর মত।
রাহুল গান্ধীকে কংগ্রেসের মুখ হিসেবে উল্লেখ করে শর্মিষ্ঠা বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে একের পর এক নির্বাচনে দলের পরাজয় নেতৃত্বের উপরও প্রশ্ন তোলে। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা নির্বাচনী ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে, কিন্তু রাহুল এখনও সেই ধরনের জনসমর্থন কংগ্রেসের পক্ষে গড়ে তুলতে পারেননি।
তবে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার মধ্যে তুলনা করতে চাননি শর্মিষ্ঠা। তিনি জানান, কংগ্রেসে থাকাকালীন দুই নেতার সঙ্গেই তাঁর যোগাযোগ ছিল সীমিত, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
শর্মিষ্ঠার এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশ মনে করছে, কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল ও নেতৃত্ব নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।