*বিশালগড়, প্রতিনিধি:* ধর্মীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিক চর্চার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বিশালগড়ে। বুধবার নবনির্মিত দক্ষিণেশ্বরী কালীবাড়ি মন্দিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা। মন্দির উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও স্থানীয় মানুষের সমাগম লক্ষ্য করা যায়।
মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে বিশেষ পূজা, যজ্ঞ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও পূজার্চনায় অংশগ্রহণ করেন এবং রাজ্যের শান্তি, সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণ কামনা করে যজ্ঞে আহুতি প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সুশান্ত দেব, বিধায়িকা অন্তরা দেব সরকার, মন্দির পরিচালন কমিটির সদস্যবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এবং বহু ভক্তপ্রাণ মানুষ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে উঠেছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে রাজ্যের মানুষ নিজেদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং সেই ঐতিহ্য সংরক্ষণে এগিয়ে আসছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিশালগড়ের দক্ষিণেশ্বরী কালীবাড়ি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বিধায়ক, মন্দির কমিটি এবং এলাকাবাসীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মন্দিরটি নতুন রূপে গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে শুধু বিশালগড় নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এখানে এসে পূজা-অর্চনা করার সুযোগ পাবেন।
মন্দির নির্মাণে যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সকলকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের উদ্যোগ সফল করা সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, মন্দির কমিটি এবং স্থানীয় বিধায়কের পক্ষ থেকে দক্ষিণেশ্বরী কালীবাড়িকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে পর্যটন দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে মন্দিরটিকে রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশজুড়ে উন্নয়নের পাশাপাশি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই নীতির ধারাবাহিকতায় ত্রিপুরা সরকারও রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলিকে সংরক্ষণ ও উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
স্থানীয়দের মতে, নবনির্মিত দক্ষিণেশ্বরী কালীবাড়ি শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবেই নয়, ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণ হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এর ফলে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
মন্দির উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিশালগড় জুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির বার্তাও তুলে ধরা হয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।