বিশ্বের সেরা সুন্দর বিমানবন্দরের তালিকায় ভারতের দুই এয়ারপোর্ট, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল দেশ

বিশ্বের সেরা সুন্দর বিমানবন্দরের তালিকায় ভারতের দুই এয়ারপোর্ট, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল দেশ

2 Min Read

*নয়াদিল্লি, প্রতিনিধি:* আন্তর্জাতিক স্থাপত্য ও নকশার ক্ষেত্রে বড় স্বীকৃতি অর্জন করল ভারতের দুটি বিমানবন্দর। ২০২৬ সালের বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর বিমানবন্দর ও টার্মিনালের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে নভি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ এবং গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২।

স্থাপত্য, পরিবেশবান্ধব নকশা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং স্থানীয় সংস্কৃতির অনন্য উপস্থাপনার জন্য এই দুই প্রকল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দফতরে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ Prix Versailles Awards-এর নির্বাচিত তালিকায় এই দুই ভারতীয় বিমানবন্দর স্থান পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বিমানবন্দর এখন শুধুমাত্র যাত্রী পরিবহনের কেন্দ্র নয়, বরং একটি দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি হিসেবেও কাজ করে। সেই দিক থেকে ভারতের এই দুই বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

নভি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ তার আধুনিক স্থাপত্য এবং ভারতীয় সংস্কৃতি-অনুপ্রাণিত নকশার জন্য প্রশংসিত হয়েছে। পদ্মফুলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এর স্থাপত্যশৈলী ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি করেছে। উন্নত প্রযুক্তি, শিল্পকলা এবং বিশ্বমানের অবকাঠামো এই বিমানবন্দরকে ভবিষ্যৎমুখী এক পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে।

অন্যদিকে, গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রকৃতি ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে। ‘বাঁশ অর্কিড’ থেকে অনুপ্রাণিত নকশা, পরিবেশবান্ধব নির্মাণ পদ্ধতি এবং জীববৈচিত্র্যের প্রতিফলন এই টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

স্থাপত্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রকল্প শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং যাত্রীদের উন্নত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ বছরের তালিকায় ভারত ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একাধিক আধুনিক বিমানবন্দর স্থান পেয়েছে। সেই প্রতিযোগিতামূলক তালিকায় দুটি ভারতীয় বিমানবন্দরের অন্তর্ভুক্তি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পর্যটন ও বিমান পরিবহন মহলের মতে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ভবিষ্যতে ভারতের বিমান চলাচল খাতকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিশ্বমানের অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন উৎসাহ যোগাবে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *