*আন্তর্জাতিক ডেস্ক:* পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে নতুন সামরিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিল পাকিস্তান। দেশটির নৌবাহিনী চীনে নির্মিত নতুন হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিনকে কাজে লাগিয়ে বঙ্গোপসাগর এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের হাতে এসেছে অত্যাধুনিক হ্যাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিনের প্রথম ইউনিট। করাচিতে পৌঁছনোর পর থেকেই পাকিস্তানের সামুদ্রিক কৌশল নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। নৌবাহিনীর কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরেও এই সাবমেরিনগুলির কার্যক্রম বাড়ানো হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রজন্মের এই সাবমেরিনে রয়েছে এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রপালশন (AIP) প্রযুক্তি। ফলে দীর্ঘ সময় জলের নিচে থেকে অভিযান চালানো সম্ভব হবে এবং শত্রুপক্ষের নজর এড়ানোর সক্ষমতাও বাড়বে।
পাকিস্তান নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মোট আটটি হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের নৌ-উপস্থিতি কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছিল। নতুন এই পদক্ষেপকে সেই পরিস্থিতি বদলের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশ।
তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের এই উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে কৌশলগত ভারসাম্যে বড় কোনও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। কারণ, ভারতীয় নৌবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে শক্তিশালী উপস্থিতি, পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন, বিমানবাহী রণতরী এবং উন্নত সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা এখনও এই অঞ্চলে ভারতের অবস্থানকে অনেকটাই শক্তিশালী করে রেখেছে।
তবুও বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের সম্ভাব্য সক্রিয়তা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক কৌশলগত সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে চীন-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এখন নজর থাকবে পাকিস্তান কত দ্রুত তাদের সাবমেরিন বহর সম্প্রসারণ করতে পারে এবং বঙ্গোপসাগরে বাস্তবে কতটা কার্যকর উপস্থিতি গড়ে তুলতে সক্ষম হয় তার দিকে।