দু’বছর পর খুলছে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার দরজা, নতুন আশায় বুক বাঁধছেন পেট্রাপোল সীমান্তের ব্যবসায়ীরা

দু'বছর পর খুলছে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার দরজা, নতুন আশায় বুক বাঁধছেন পেট্রাপোল সীমান্তের ব্যবসায়ীরা

2 Min Read

প্রায় দুই বছর ধরে কার্যত বন্ধ থাকার পর ফের বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা পরিষেবা চালু হওয়ায় সীমান্ত জুড়ে খুশির হাওয়া। আগামী ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশের পাঁচটি বিভাগে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই নতুন আশায় দিন গুনতে শুরু করেছেন পেট্রাপোল, চ্যাংরাবান্ধা-সহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়ীরা।

দীর্ঘদিন পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকায় উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল স্থলবন্দর এবং উত্তরবঙ্গের চ্যাংরাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সংলগ্ন এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বড়সড় প্রভাব পড়েছিল। যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ায় পরিবহণ, মানি এক্সচেঞ্জ, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং দৈনিক শ্রমনির্ভর পেশার সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মানুষ আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ঘোষণার পর সীমান্ত এলাকায় যেন নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু হলে দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সীমান্তবর্তী অর্থনীতিতে।

পেট্রাপোলের এক ব্যবসায়ীর কথায়, “দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা একেবারে মন্দার মধ্যে ছিল। পর্যটক না থাকায় হোটেল থেকে শুরু করে পরিবহণ—সব ক্ষেত্রেই ক্ষতি হয়েছে। এখন ভিসা পরিষেবা চালু হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।”

একই মত মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীদেরও। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশ থেকে পর্যটকদের আগমন বাড়লে শুধু মুদ্রা বিনিময় নয়, হোটেল, রেস্তোরাঁ, টোটো, গাড়ি পরিষেবা এবং স্থানীয় বাজারগুলিও নতুন করে চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় পর্যটন ভিসা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। শুধুমাত্র চিকিৎসা, ব্যবসা ও বিশেষ জরুরি প্রয়োজনে সীমিত সংখ্যক ভিসা দেওয়া হচ্ছিল। পরবর্তীতে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে একাধিক কূটনৈতিক আলোচনার পর ধীরে ধীরে ভিসা পরিষেবা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, ভারত-বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ককেও আরও মজবুত করবে। দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্কও নতুন মাত্রা পাবে।

যদিও ২৮ জুন থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলেও, ঠিক কবে থেকে বিপুল সংখ্যায় পর্যটকরা পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত শুরু করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সীমান্তবাসীদের বিশ্বাস, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেই দিন আর খুব বেশি দূরে নয়।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *