নয়াদিল্লি: সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি খবর ঘিরে নতুন করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। দাবি করা হচ্ছিল, ২০০৫ সালের আগে ছাপানো মহাত্মা গান্ধী সিরিজের সমস্ত নোট শীঘ্রই বাতিল করতে চলেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। এর জেরে অনেকেই ২০১৬ সালের নোটবন্দির স্মৃতি টেনে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ব্যাঙ্কিং মহল। জানানো হয়েছে, ২০০৫ সালের আগে মুদ্রিত নোট বাতিলের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই ধরনের নোট এখনও সম্পূর্ণ বৈধ এবং দেশের সর্বত্র লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে।
ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের মতে, পুরনো এবং জীর্ণ নোট ধাপে ধাপে বাজার থেকে তুলে নেওয়া RBI-র দীর্ঘদিনের নিয়মিত প্রক্রিয়া। পুরনো নোটে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় সেগুলি সংগ্রহ করে নতুন নোটের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে পুরনো নোট অবৈধ হয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৬ সালের নোটবন্দি এবং পরবর্তীকালে ২০০০ টাকার নোট প্রত্যাহারের অভিজ্ঞতার কারণে সাধারণ মানুষ এ ধরনের খবরকে সহজেই বিশ্বাস করে ফেলছেন। কিন্তু বর্তমানে প্রাক-২০০৫ সিরিজের নোট নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
কীভাবে বুঝবেন আপনার নোটটি ২০০৫ সালের আগের?
২০০৫ সালের পর ছাপানো অধিকাংশ নোটের পিছনের অংশে নিচের দিকে ছাপার সাল স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। কিন্তু ২০০৫ সালের আগে মুদ্রিত নোটে সেই সাল লেখা থাকে না। যদি নোটের পিছনে ছাপার বছর উল্লেখ না থাকে, তাহলে সেটি পুরনো সিরিজের নোট হতে পারে।
ব্যাঙ্ক সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ধরনের পুরনো নোট থাকলে গ্রাহকরা দেশের যে কোনও সরকারি বা বেসরকারি ব্যাঙ্ক শাখায় গিয়ে বিনামূল্যে তা বদলে নিতে পারবেন। এ জন্য কোনও অতিরিক্ত শর্ত বা ফি প্রযোজ্য নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করা এবং জাল নোটের প্রবণতা রোধ করতেই পুরনো নোট ধীরে ধীরে বাজার থেকে সরানোর এই প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। ফলে গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র RBI এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের সরকারি তথ্যের উপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।