ঢাকা/নয়াদিল্লি: দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখনও রয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নানা বাধা-বিপত্তি এবং রাজনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের মধ্যেই দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রাম কোনও ব্যক্তিগত ক্ষমতার লড়াই নয়। বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার, সংবিধানের মর্যাদা এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ রক্ষার জন্যই তিনি রাজনীতি করে এসেছেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে যে সমস্ত মামলা ও বিচারপ্রক্রিয়া চলছে, তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ।
তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা হলেও সাধারণ মানুষের সমর্থন এখনও দলের পাশে রয়েছে। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগের শিকড় বাংলাদেশের মাটি ও ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত, ফলে দলকে রাজনৈতিকভাবে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
বর্তমান বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা নিয়েও তীব্র সমালোচনা শোনা যায় শেখ হাসিনার বক্তব্যে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে এখন গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হয়েছে, বিরোধী মতকে দমিয়ে রাখা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটেছে।
সাক্ষাৎকারে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি। শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের মূল ভিত্তি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা ও সকল সম্প্রদায়ের সমান অধিকার। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙচুর এবং ভয়ভীতির পরিবেশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
তাঁর কথায়, কোনও ধর্মীয় বা জাতিগত সংখ্যালঘুর উপর আক্রমণ শুধুমাত্র একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই আঘাত করে। তিনি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকারও দাবি জানান।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও দমন-পীড়নের পরিবর্তে সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা মহলে আলোচনা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিয়েছে।