বিদেশে উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মসূত্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন? তাহলে এবার পাসপোর্ট সংক্রান্ত খরচের হিসাব নতুন করে কষতে হবে। কারণ আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পাসপোর্ট তৈরির ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে চলেছে। নতুন এই ফি কাঠামো বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের বাজেটে বাড়তি চাপ ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী ৩৬ পাতার সাধারণ পাসপোর্টের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে খরচ হবে ২,৫০০ টাকা। জরুরি বা তৎকাল পরিষেবার ক্ষেত্রে দিতে হবে ৫,০০০ টাকা। অন্যদিকে ৬০ পাতার পাসপোর্টের জন্য স্বাভাবিক আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩,৫০০ টাকা এবং তৎকাল পরিষেবার জন্য ৬,০০০ টাকা।
১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও ফি বাড়ানো হয়েছে। নাবালকদের জন্য ৩৬ পাতার পাসপোর্টে সাধারণ আবেদনের খরচ হবে ১,৭৫০ টাকা, আর তৎকাল পরিষেবায় লাগবে ৪,২৫০ টাকা। এছাড়াও হারিয়ে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যু করার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে আবেদনকারীদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে পড়তে যেতে ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, স্টুডেন্ট ভিসা এবং অন্যান্য নথিপত্রের প্রক্রিয়ায় বৈধ পাসপোর্ট অপরিহার্য। তাই যাঁদের আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC), সারেন্ডার সার্টিফিকেট এবং গ্লোবাল এন্ট্রি প্রোগ্রাম ভেরিফিকেশন পরিষেবার ফিও সংশোধন করা হয়েছে। নতুন নিয়মে এই পরিষেবাগুলির জন্য ৭৫০ টাকা করে দিতে হবে। উল্লেখ্য, বহু দেশ স্টুডেন্ট ভিসার সময় পিসিসি জমা বাধ্যতামূলক করে থাকে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ও ঘোষণা করেছে বিদেশ মন্ত্রক। নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারী ৮ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকরা ১০ শতাংশ ফি ছাড় পাবেন। যদিও এই সুবিধা শুধুমাত্র নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, পুনর্নবীকরণ বা রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে নয়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদেশে পড়াশোনা বা ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকা আবেদনকারীদের সময় নষ্ট না করে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।