মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে ভারতকে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ছয় উইকেটের পরাজয়ের পরই শেষ হয়ে যায় সেমিফাইনালে ওঠার আশা। টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার পর এখন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে বড়সড় পরিবর্তনের দাবি জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে অধিনায়ক হিসেবে Harmanpreet Kaur-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
বিশ্বকাপের আগে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হলেও মাঠে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি ভারত। টানা দ্বিতীয় টি-২০ বিশ্বকাপে হরমনপ্রীতের নেতৃত্বে নকআউট পর্বে পৌঁছতে ব্যর্থ হওয়ায় দলের কৌশল, দল নির্বাচন এবং নেতৃত্ব—সবই এখন প্রশ্নের মুখে।
যদিও প্রধান কোচ Amol Muzumdar প্রকাশ্যে হরমনপ্রীতের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তবুও নির্বাচকরা নেতৃত্বে পরিবর্তনের পথে হাঁটবেন কিনা, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ৩৭ বছর বয়সি হরমনপ্রীত সম্প্রতি ভারতকে একদিনের বিশ্বকাপ জেতালেও টি-২০ ফরম্যাটে তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও খুব একটা ধারাবাহিক ছিল না। ২০২৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের পর ২৪ ইনিংসে মাত্র চারবার পঞ্চাশের গণ্ডি পেরিয়েছেন তিনি।
দলের ব্যাটিং বিভাগেও ছিল অনিশ্চয়তা। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই সেরা একাদশ খুঁজে বেড়াতে দেখা যায় টিম ম্যানেজমেন্টকে। মিডল অর্ডারে Jemimah Rodrigues ও Yastika Bhatia প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও সমালোচনার মুখে পড়েছে।
বোলিং বিভাগেও বারবার পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হিসেবে উঠে এসেছে তরুণ বাঁহাতি স্পিনার Shree Charani-এর নাম। পাঁচ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে তিনিই ছিলেন ভারতের সেরা বোলার।
ফিল্ডিংও ভারতের ব্যর্থতার অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পুরো টুর্নামেন্টে ভারত মোট ১০টি ক্যাচ ফেলেছে, যা প্রতিযোগিতায় অন্যতম খারাপ পরিসংখ্যান। বিশেষ করে Marizanne Kapp-কে একাধিক জীবনদান দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—দল কি নতুন দিশা খুঁজবে, নাকি পুরনো নেতৃত্বের উপরই আস্থা রাখবে? আগামী কয়েক মাসে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তই সেই উত্তর দেবে।