বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফের উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। একদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপির একাংশ থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে, অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের মধ্যেই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এই দুই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামীর ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। পরে আদালতের রায় ও অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সিদ্ধান্তে দলটি আবারও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আসন জিতে জামায়াত প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বিএনপির এক সাংসদ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকা এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য, ধর্মের নামে রাজনীতি দেশের জন্য ক্ষতিকর এবং এ ধরনের দলকে রাজনৈতিক পরিসরে সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর এক সাংসদ দাবি করেন, দলটিকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে বিরোধী দলকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না।
এর মধ্যেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং জনগণের স্বার্থে তাঁর রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশে ফেরা নিয়ে কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা বা গোপন আলোচনা হয়নি এবং সব আইনি বিষয় স্বাধীন বিচারব্যবস্থার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াতকে ঘিরে বিতর্ক এবং শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা—এই দুই ঘটনাই আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।