বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের একাধিক জেলায় আরবি ‘কালেমা’ লেখা কালো ও সাদা পতাকা প্রকাশ্যে টাঙানো এবং সেগুলি নিয়ে মিছিলের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে দেশটির আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে ঢাকার একটি ফ্লাইওভারে এই ধরনের পতাকা দেখা যায়। পরে মীরপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ফরিদপুর-সহ আরও কয়েকটি এলাকায় একই ধরনের পতাকা প্রদর্শনের খবর সামনে আসে। বিভিন্ন মোটরবাইক র্যালি ও সমাবেশের ভিডিওও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পতাকাগুলির মধ্যে কিছু আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির ব্যবহৃত প্রতীকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে শুধুমাত্র পতাকা প্রদর্শনের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ বিষয়ে বাংলাদেশের তদন্তকারী সংস্থাগুলির আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখনও চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ‘তাওহিদী জনতা’ নামে পরিচয় দিয়েছেন। আয়োজকদের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং ধর্মীয় সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির পেছনে কোনও সংগঠিত চরমপন্থী নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতির দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মত তাঁদের।
ভারতের কিছু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন। দুই দেশের দীর্ঘ স্থলসীমান্তের কারণে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তঃসীমান্ত কার্যকলাপ নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ভারত বা বাংলাদেশ—কোনও দেশের সরকার এখনও এই ঘটনাকে নির্দিষ্ট কোনও জঙ্গি সংগঠনের কর্মকাণ্ড হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।
বাংলাদেশের প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিও, পতাকা প্রদর্শনের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।