লন্ডন:
মহিলাদের মাদক খাইয়ে যৌন নির্যাতনের পরিকল্পনা, সেই অপরাধের ভিডিও ও ছবি ভাগ করে নেওয়া এবং পুলিশের নজর এড়ানোর কৌশল শেখানো—এমনই এক আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের পর্দাফাঁস করেছে ইউরোপের একাধিক দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। সাতটি দেশের যৌথ অভিযানে ৯টি দেশে সক্রিয় এই নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলেছে।
*’প্রজেক্ট মেডুসা’* নামে পরিচালিত এই অভিযানে ব্রিটেন, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, হাঙ্গেরি ও স্পেনের তদন্তকারী সংস্থাগুলি একযোগে কাজ করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, অপরাধীরা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ, ব্যক্তিগত ফোরাম এবং বন্ধ চ্যাট গ্রুপ ব্যবহার করে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।
তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রের সদস্যরা কীভাবে ভুক্তভোগীদের অজান্তে মাদক প্রয়োগ করতে হবে, কীভাবে অপরাধ গোপন রাখতে হবে এবং কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যাবে—এসব বিষয় নিয়ে নিয়মিত তথ্য আদানপ্রদান করত। অভিযোগ, নির্যাতনের ভিডিও ও ছবিও তারা নিজেদের মধ্যে শেয়ার করত।
এ পর্যন্ত অভিযানে *১৫০ জনের বেশি সন্দেহভাজন ও ভুক্তভোগীকে শনাক্ত, **২৭০টিরও বেশি নতুন তদন্ত সূত্র* উদ্ধার এবং *৫৭ জনকে গ্রেফতার* করা হয়েছে। তবে তদন্তকারীদের আশঙ্কা, প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি, কারণ বহু ঘটনা কখনও অভিযোগ আকারে সামনে আসে না।
ব্রিটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (NCA)-র মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের পরিচিত বা বিশ্বাসভাজন ব্যক্তি ছিলেন। অনেকেই দীর্ঘদিন বুঝতেই পারেননি যে তাঁদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরে পুলিশের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন।
ইউরোপোল জানিয়েছে, এই ধরনের সংগঠিত অপরাধ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। তাই আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে এই ধরনের অপরাধ দমনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে