আগরতলা:*
ত্রিপুরার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হলো আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যাত্রী পরিষেবাকে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং পরিবেশবান্ধব করতে শনিবার আগরতলা–করিমগঞ্জ–আগরতলা অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক মেমু (MEMU) ট্রেন পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। বাধারঘাট রেলস্টেশনে সবুজ পতাকা নেড়ে নতুন এই ট্রেন পরিষেবার সূচনা করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, বিধায়িকা মীনা রাণী সরকার, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকসহ প্রশাসনের একাধিক প্রতিনিধি।
অনুষ্ঠানে পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জানান, বর্তমানে আগরতলা থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৮টি ট্রেন চলাচল করছে। এতদিন যে পাঁচটি ডেমু ট্রেন পরিষেবা চালু ছিল, সেগুলিকে পর্যায়ক্রমে অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক মেমু ট্রেনে রূপান্তর করা হয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের যাতায়াত আরও আরামদায়ক, দ্রুত এবং পরিবেশবান্ধব হবে। পাশাপাশি ট্রেন পরিচালনার ব্যয়ও কমবে এবং পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে বলে তিনি জানান।
মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন নীতির ফলেই ত্রিপুরার রেল অবকাঠামো দ্রুত আধুনিক হচ্ছে। তিনি জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে প্রথমবারের মতো এই ধরনের অত্যাধুনিক মেমু ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়া রাজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। সরকারের লক্ষ্য সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্পন্ন গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু মেমু ট্রেনই নয়, ভবিষ্যতে ত্রিপুরায় *বন্দে ভারত এক্সপ্রেস* চালুর লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রেল মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চলছে। রেল যোগাযোগের আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনীতি, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আগরতলা–করিমগঞ্জ মেমু ট্রেন চালু হওয়ার ফলে ত্রিপুরা ও আসামের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। প্রতিদিন যাতায়াতকারী চাকরিজীবী, ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা এই পরিষেবার মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, বাণিজ্য এবং আন্তঃরাজ্য যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
রাজ্য সরকার ও রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল পরিষেবাকে আধুনিকীকরণ এবং যাত্রীদের উন্নত সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও একাধিক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।