*কিয়েভ:* ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শুরুর ঠিক আগেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও তার আশপাশে ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রশাসনের দাবি, এই হামলায় অন্তত *৮ জন নিহত* এবং *৩৪ জনেরও বেশি আহত* হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে *৭ জন কিয়েভে* এবং *১ জন বুচা জেলায়* প্রাণ হারিয়েছেন।
সোমবার ভোরে হামলার সময় কিয়েভজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চালায়। তবে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আবাসিক এলাকায় আঘাত হানলে চারটি বহুতল ভবনে আগুন লেগে যায়। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, মানুষ যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, ঠিক সেই সময় এই হামলা চালানো হয়েছে।
কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ প্রশাসন। একইসঙ্গে মস্কোর দিকে আসা একাধিক ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।
এই হামলার আবহেই মঙ্গলবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় শুরু হচ্ছে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট *ডোনাল্ড ট্রাম্প* এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট *ভলোদিমির জেলেনস্কি* বৈঠকে বসবেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। এরপর ট্রাম্পের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট *ভ্লাদিমির পুতিনের* সঙ্গেও আলোচনা করার কথা রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা ফের শুরু করার লক্ষ্যে এই বৈঠকগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দাবি করেছেন, পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর *কোস্তিয়ানতিনিভকা* নিয়ে লড়াই এখনও চলছে। রাশিয়া শহরটি দখলের দাবি করলেও ইউক্রেন সেই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটো সম্মেলনের আগে রাশিয়ার এই বড় হামলা এবং ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে, যদিও আন্তর্জাতিক মহল কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।