‘ভারতের সাহায্য চাই’, পাকিস্তানের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে মানবিক সহায়তার আবেদন PoK আন্দোলনকারীদের*

‘ভারতের সাহায্য চাই’, পাকিস্তানের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে মানবিক সহায়তার আবেদন PoK আন্দোলনকারীদের*

2 Min Read

*ইসলামাবাদ/রাওয়ালাকোট:* পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) চলমান অশান্তির মধ্যেই ভারতের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানালেন *জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-র নেতা **সর্দার আমান খান*। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলন দমাতে পাকিস্তান প্রশাসন ব্যাপক ধরপাকড় চালানোর পাশাপাশি কার্যত অর্থনৈতিক অবরোধ সৃষ্টি করেছে, যার ফলে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে আমান খানকে বলতে শোনা যায়, *“আমাদের ভারতের সাহায্য প্রয়োজন। এখানে খাদ্যসামগ্রীর অভাব রয়েছে, আমাদের সাহায্য করুন।”* যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাওয়ালাকোটের ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) খুলে দেওয়ার দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সাধারণ মানুষের যেন ভারতে যাওয়ার সুযোগ থাকে। তিনি বিশেষভাবে *পুঞ্চ ও ডোডা সেক্টরের* সীমান্ত খুলে দেওয়ারও আহ্বান জানান।

সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, *“আমরা কি নিয়ন্ত্রণরেখার দিকে এগোব?”* উত্তরে জনতা একসঙ্গে সমর্থন জানায়। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মানুষের দাবির জবাব যদি গুলি দিয়ে দেওয়া হয়, তবে আন্দোলনকারীদের সামনে অন্য পথও খোলা থাকবে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হয়েছে। গত সপ্তাহে রাওয়ালাকোটে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা *“PoK পাকিস্তানের অংশ নয়”* এবং *“আমরা স্বাধীনতা চাই”*—এই ধরনের স্লোগান দেন। বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন ধীরে ধীরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিবাদে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত *৫ জুন* পাকিস্তান সরকার *জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)*-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং সংগঠনটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা দেয়। এরপর থেকেই এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান, ধরপাকড় এবং বিক্ষোভ দমনের অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে ইসলামাবাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার দূরত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *