*রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতের উপর ৫০০% শুল্কের আশঙ্কা? মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ*

*রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতের উপর ৫০০% শুল্কের আশঙ্কা? মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ*

3 Min Read

*আন্তর্জাতিক ডেস্ক:* রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি বিলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সেই প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল, গ্যাস বা অন্যান্য জ্বালানি কিনে চলা দেশগুলির উপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন প্রভাবশালী সেনেটর জানিয়েছেন, *”Sanctioning Russia Act of 2025″* নামে একটি বিল নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নীতিগত সমঝোতা হয়েছে। খুব শিগগিরই বিলটি কংগ্রেসে উত্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত বিলের মূল লক্ষ্য রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে আয় কমিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে চাপ সৃষ্টি করা। খসড়া অনুযায়ী, যেসব দেশ রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইউরেনিয়াম বা অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানি করবে, তাদের পণ্য ও পরিষেবার উপর যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে।

প্রথম খসড়ায় সর্বোচ্চ *৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের* প্রস্তাব রাখা হলেও পরে সেই হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত বিল এখনও প্রকাশ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কী পরিমাণ শুল্ক ধার্য হতে পারে, তা স্পষ্ট নয়।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে। তুলনামূলক কম দামে তেল পাওয়ায় ভারতের আমদানি ব্যয় কমেছে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাও বজায় রয়েছে। কিন্তু নতুন মার্কিন প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই নীতির উপর চাপ তৈরি হতে পারে।

এই বিলের অন্যতম সমর্থক মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম আগেই সতর্ক করেছিলেন, রাশিয়ার অর্থনীতিকে জ্বালানি ক্রয়ের মাধ্যমে সহায়তা করা দেশগুলিকেও তার ফল ভোগ করতে হতে পারে। বিশেষ করে ভারত ও চীনের নাম উল্লেখ করে তিনি কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

জানা গেছে, মার্কিন সিনেটে ইতিমধ্যেই এই বিলের পক্ষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমর্থন তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রাশিয়ার উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে এই ধরনের পদক্ষেপের পক্ষে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে বিলটি এখনও আইন হয়ে ওঠেনি এবং কংগ্রেসে আলোচনা ও অনুমোদনের পরই এর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি এই আইন বর্তমান বা অনুরূপ কঠোর রূপে কার্যকর হয়, তাহলে ভারতের জন্য একাধিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া ভারতীয় পণ্যের খরচ বেড়ে যেতে পারে, বাণিজ্যিক সম্পর্কের উপর চাপ পড়তে পারে এবং জ্বালানি আমদানির কৌশল নতুন করে পর্যালোচনা করতে হতে পারে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব শিল্প, উৎপাদন ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির উপরও পড়তে পারে।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, *বর্তমানে ভারতের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়নি। এটি একটি **প্রস্তাবিত মার্কিন বিল*, যা এখনও আইনে পরিণত হয়নি। ফলে এর চূড়ান্ত বিধান কী হবে এবং ভারতসহ অন্যান্য দেশের উপর বাস্তবে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে কংগ্রেসের অনুমোদন ও পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *