*মেলাঘর:* টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে উঠেছে গোমতী নদী। আর নদীর বাড়তি স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তীব্র ভাঙন। সেই ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন মেলাঘর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরজাহান বিবি ও তাঁর পরিবার।
নদীর ভাঙন এতটাই ভয়াবহ আকার নিয়েছে যে, বসতবাড়ির একেবারে গা ঘেঁষে পৌঁছে গেছে গোমতীর জল। যেকোনো মুহূর্তে বাড়ির একটি অংশ এবং সংলগ্ন বাথরুম নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবারের সদস্যরা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুরজাহান বিবি জানান, তাঁদের অন্য কোথাও জমি কিনে নতুন বাড়ি তৈরির আর্থিক সামর্থ্য নেই। স্বামী দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত, তিনি নিজেও হৃদরোগে ভুগছেন। ছেলেদের অল্প আয়েই কোনোমতে সংসার চলছে। এই অবস্থায় বাড়িটি হারালে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও থাকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় নদীভাঙন রোধে বোল্ডার ফেলার কাজের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে বর্ষাকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা এই পরিবারের পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসীরও আশঙ্কা, দ্রুত অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও কয়েকটি বাড়ি ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। তাই অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
নুরজাহান বিবি রাজ্য সরকার, সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং মেলাঘর পৌরসভার কাছে আবেদন জানিয়েছেন, স্থায়ী কাজ শুরু হওয়ার আগেই যেন অন্তত অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে তাঁদের একমাত্র আশ্রয়টুকু রক্ষা পায়।
এখন প্রশ্ন একটাই—বর্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় প্রশাসন থাকবে, নাকি বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এই অসহায় পরিবারের পাশে দ্রুত এগিয়ে আসবে।