গুয়াহাটি, প্রতিনিধি:* ক্যামেরার লেন্সে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তকে বন্দি করেছেন তিনি। পুরুষদের আধিপত্যপূর্ণ ক্রীড়া চিত্রসাংবাদিকতার জগতে নিজের দক্ষতা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আলাদা পরিচয় গড়ে তোলা অসমের ফটোসাংবাদিক গীতিকা তালুকদার এবার পেলেন আরও এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ কভার করার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনিই একমাত্র ভারতীয় মহিলা ফটোসাংবাদিক, যিনি আসন্ন বিশ্বকাপে মাঠ থেকে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।
গীতিকা তালুকদারের এই সাফল্য শুধু অসম নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, পেশার প্রতি নিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক মানের কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই অর্জনকে।
ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা এবং ফটোগ্রাফির প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল গীতিকার। সেই আগ্রহকেই তিনি পরবর্তীতে পেশায় রূপ দেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও একটি ফটো নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে ধীরে ধীরে ক্রীড়া চিত্রসাংবাদিকতার জগতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। মাঠের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, খেলোয়াড়দের আবেগ এবং প্রতিযোগিতার উত্তেজনাকে ক্যামেরায় নিখুঁতভাবে তুলে ধরার দক্ষতার জন্য তিনি দ্রুতই পরিচিতি লাভ করেন।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে গীতিকার অভিজ্ঞতাও কম নয়। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ কভার করার পর এবার তৃতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। এছাড়াও তিনি ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ, অলিম্পিক গেমস, কমনওয়েলথ গেমস এবং একাধিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট কভার করেছেন।
তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। একজন নারী হিসেবে ক্রীড়া চিত্রসাংবাদিকতার মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় প্রতিষ্ঠা পেতে তাঁকে নানা বাধা, সামাজিক কটাক্ষ এবং পেশাগত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে একজন নারী এই ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন সফলভাবে কাজ করতে পারবেন কি না। কিন্তু গীতিকা তাঁর কাজ, নিষ্ঠা এবং ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে সেই সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।
বর্তমানে গীতিকা তালুকদার শুধু একজন সফল ফটোসাংবাদিক নন, তিনি নারী ক্ষমতায়ন এবং পেশাগত সমতার এক অনুপ্রেরণামূলক প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন। তাঁর সাফল্য উত্তর-পূর্ব ভারতের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে তরুণীদের জন্য নতুন স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া ও সংবাদমাধ্যম জগতের বিশিষ্টজনেরা।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে একজন ভারতীয় মহিলা ফটোসাংবাদিকের এই স্বীকৃতি দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে গীতিকা তালুকদারের উপস্থিতি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতীয় নারী সাংবাদিকতারও এক গৌরবময় অর্জন।
বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ আসরে আবারও ক্যামেরা হাতে মাঠে নামতে প্রস্তুত গীতিকা। তাঁর লেন্সে ধরা পড়বে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের লড়াই, আবেগ এবং ইতিহাস সৃষ্টির মুহূর্ত— আর সেই সঙ্গে উজ্জ্বল হবে উত্তর-পূর্ব ভারতের এক কন্যার সাফল্যের গল্পও।