জম্পুইজলা, প্রতিনিধি:* বয়স ৭০ বছর। বহু বছর আগেই স্বামীকে হারিয়েছেন। সংসার চালানোর একমাত্র ভরসা ছিল মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প (রেগা)-র কাজ। কিন্তু সেই কাজ থেকেও বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন জম্পুইজলা ব্লকের গুলিরাইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রোশনারা খাতুন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার গুলিরাইবাড়ি ভিলেজে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৃদ্ধা রোশনারা খাতুন অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি রেগার কাজে অংশ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁকে আর কাজে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে রোশনারা খাতুন বলেন, বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও এখনও কাজ করার মতো সক্ষমতা তাঁর রয়েছে। কাজ করেই তিনি নিজের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতেন। কিন্তু বর্তমানে কাজ না পাওয়ায় জীবিকা নির্বাহ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
বৃদ্ধার অভিযোগ, গ্রামের জিআরএস (গ্রাম রোজগার সহায়ক) সন্ধি রাম দেববর্মার নির্দেশেই তাঁকে রেগার কাজ থেকে দূরে রাখা হয়েছে। যদিও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জিআরএস বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রোশনারা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, “আমি ভিক্ষা চাই না, কাজ চাই। কাজ করলে নিজের খরচ নিজেই চালাতে পারব। কিন্তু আমাকে যদি কাজই না দেওয়া হয়, তাহলে কীভাবে বাঁচব?”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের অন্যান্য রেগা শ্রমিকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়ে দাবি করেন, একজন স্বামীহারা ও অসহায় বৃদ্ধাকে কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত করা অত্যন্ত অমানবিক। তাঁদের মতে, রেগা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হল আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের হাতে কাজ তুলে দেওয়া। সেখানে একজন প্রকৃত সুবিধাভোগীকে কাজ না দেওয়া হলে প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
স্থানীয় শ্রমিকদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে বৃদ্ধাকে পুনরায় কাজে যুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ঘটনাটি সামনে আসার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, প্রশাসনের উচিত দ্রুত হস্তক্ষেপ করে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
এখন দেখার বিষয়, বৃদ্ধা রোশনারা খাতুনের অভিযোগের পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং তিনি পুনরায় রেগার কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ পান কি না।