ইরান-আমেরিকা সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতার ভূমিকায় উঠে এসেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের উদ্যোগে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
পাকিস্তানের দাবি, ‘ইসলামাবাদ মেমোরান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে পরিচিত এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে। শাহবাজ শরিফ জানান, চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সম্মত হয়েছে এবং আমেরিকাও নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও পরবর্তীতে লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের জেরে ইরান ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়।
এই চুক্তিতে মধ্যস্থতার জন্য কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের ভূমিকাকেও ধন্যবাদ জানিয়েছে ইসলামাবাদ। আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিমধ্যেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ার বাজারেও উত্থান দেখা গিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের কূটনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের এই ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলে তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারতও ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির অন্যতম। ফলে এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা যে সহজ নয়, এই ঘটনা তা আরও স্পষ্ট করে দিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক গুরুত্বের পিছনে রয়েছে একাধিক কারণ। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ হওয়ার পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বে পাকিস্তানের বিশেষ প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি শক্তিশালী সেনাবাহিনী, পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার এবং পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাহিনী। দেশটি প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানির ক্ষেত্রেও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। চীন ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিয়েছে।
তবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। বালুচিস্তান-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক ঋণের উপর নির্ভরতা দেশটির জন্য বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। অন্যদিকে, ভারতকেও বৈশ্বিক পরিসরে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে কূটনৈতিক প্রচার ও জনসংযোগ বাড়ানোর উপর জোর দিতে হবে।