কাঁঠালতলীতে খুনের জেরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, আটক দুই

কাঁঠালতলীতে খুনের জেরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, আটক দুই

2 Min Read

রাজধানীর উপকণ্ঠে আমতলী থানাধীন কাঁঠালতলী এলাকায় বিজেপি কর্মী তথা তরুণ সংঘ ক্লাবের সম্পাদক সমীর দাস খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার সমীর দাসের মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেই সোমবার গভীর রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগ, সমীর দাস নিজের স্কুটিতে করে বাড়ি ফেরার সময় কাঁঠালতলী শনি মন্দির সংলগ্ন এলাকায় স্বপন সূত্রধর ও মিঠুন সূত্রধর নামে দুই ব্যক্তি তাঁর পথ আটকায়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সমীর দাসের।

ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমতলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাঁপানিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পাশাপাশি ফরেনসিক দল ও ডগ স্কোয়াড ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে।

মঙ্গলবার মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর শোকাহত পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ অভিযুক্ত স্বপন সূত্রধর ও মিঠুন সূত্রধরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর এবং পরে অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় ঘটনাস্থলে ছুটে যান পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার নমিত পাঠক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধ্রুব নাথ-সহ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা।

আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে শুরু হয় পুলিশি টহল, মাইকিং এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কাঁঠালতলী এলাকায় সিআরপিএফও মোতায়েন করা হয়েছে।

পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার নমিত পাঠক জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকেই আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি সকলকে আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধ্রুব নাথও জানান, এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন কড়া নজর রাখছে।

ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় এখনও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, পূর্ব শত্রুতার মাত্রা এবং ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *