২৬ জুন ২০২৬ :- অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) কার্যকর হলে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারিবারিক আইনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা বেড়েছে।
দেশে প্রথম উত্তরাখণ্ডে UCC কার্যকর হয়। এরপর আরও কয়েকটি রাজ্যে এই আইন প্রবর্তনের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এখনও এই আইন চালু হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা চলছে।
বর্তমানে উত্তরাখণ্ডে কার্যকর থাকা আইনে লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনও প্রাপ্তবয়স্ক যুগল একসঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়া বসবাস শুরু করলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেই সম্পর্কের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।
আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, উত্তরাখণ্ডের স্থায়ী বাসিন্দারা যদি রাজ্যের বাইরে বা বিদেশে থেকেও লিভ-ইন সম্পর্কে থাকেন, সেক্ষেত্রেও তাদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে সম্পর্কের নথিভুক্তি করতে হতে পারে। আবার অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা যদি উত্তরাখণ্ডে এসে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য জমা না দিলে জরিমানা বা আইনি পদক্ষেপের বিধানও রাখা হয়েছে। যদিও এই নিয়মকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার প্রশ্নে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, লিভ-ইন সম্পর্কের নথিভুক্তির ফলে সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতি বাড়বে এবং বিশেষত নারীদের অধিকার সুরক্ষায় এটি ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সমালোচকদের দাবি, ব্যক্তিগত জীবনে অতিরিক্ত সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে এখনও UCC কার্যকর হয়নি। ফলে রাজ্যে বর্তমানে লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও বাধ্যতামূলক সরকারি রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনও আইন আনা হলে তার চূড়ান্ত বিধান আইনসভায় পাশ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
তাই আপাতত লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার বিষয়ে যে আলোচনা চলছে, তার অধিকাংশই সম্ভাব্য পরিস্থিতি ও অন্য রাজ্যের বিদ্যমান আইনের উপর ভিত্তি করে।