মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ফের ফিরে এসেছে ইরানের কাঁচা তেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা আনার পর বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানির সুযোগ পেয়েছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় রিফাইনারিগুলির কাছে তুলনামূলক কম দামে তেল বিক্রির প্রস্তাবও দিয়েছে ইরান। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, এত সস্তায় তেল পাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভারত এখনই সেই প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছে না।
শিল্প মহলের সূত্রের দাবি, ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একাধিক ব্যবসায়ী ভারতীয় সংস্থাগুলিকে বাজারদরের তুলনায় ব্যারেল প্রতি ৩ থেকে ৪ ডলার কম দামে তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। মূলত সিঙ্গাপুর এবং দুবাইয়ের কিছু ট্রেডিং সংস্থা এই প্রস্তাব নিয়ে ভারতের বিভিন্ন রিফাইনারির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
তবে ভারত কেন এই প্রস্তাব গ্রহণ করছে না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ভারতের কাঁচা তেলের সরবরাহ নিয়ে তেমন কোনও চাপ নেই। রাশিয়া, ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সহ একাধিক দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি ইতিমধ্যেই রয়েছে ভারতের। ফলে অতিরিক্ত তেলের চাহিদা এই মুহূর্তে নেই।
এছাড়াও, দেশের কৌশলগত তেল ভাণ্ডার এবং বাণিজ্যিক মজুতেও পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঁচা তেল সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে নতুন করে ইরান থেকে তেল আমদানির তাড়াহুড়ো করছে না ভারত।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ভারতের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। যদিও সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে, ভবিষ্যতে মার্কিন নীতির পরিবর্তন হলে ফের নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই ভারত আপাতত সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক আমেরিকা-ইরান সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় দাম অনেকটাই কমেছে। সেই সময় ভারত সীমিত পরিমাণে ইরানের তেল আমদানি করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন।
জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পায় অথবা সরবরাহে নতুন সংকট তৈরি হয়, তাহলে ভারত আবারও ইরানের তেলের দিকে ঝুঁকতে পারে।