অন্ধ্রপ্রদেশের অমরাবতী রাজধানী অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল। শনিবার অমরাবতীর উন্ডাভল্লি এবং পেনুমাকা এলাকায় বিরোধী দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (ওয়াইএসআরসিপি)-র প্রতিনিধিদলের সফরকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। ঘটনার পর থেকেই রাজ্যের শাসক দল টিডিপি এবং বিরোধী ওয়াইএসআরসিপি একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগে সরব হয়েছে।
ওয়াইএসআরসিপির দাবি, জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকদের আমন্ত্রণেই দলের শীর্ষ নেতারা ওই এলাকাগুলি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, বহু কৃষক দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করে আসছেন এবং তাঁদের উপর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
দলের অভিযোগ, যেসব কৃষক জমি দিতে অস্বীকার করেছেন, তাঁদের চাষের জমির চারপাশে মাটি কেটে ফেলা হয়েছে, ফলে কৃষিকাজ চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতেই দলের প্রতিনিধিদল সেখানে পৌঁছেছিল।
কিন্তু উন্ডাভল্লিতে পৌঁছনোর পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওয়াইএসআরসিপির অভিযোগ, শাসক টিডিপির সমর্থকরা তাঁদের গাড়িবহরে হামলা চালায়। গাড়িতে ইট-পাটকেল এবং ডিম ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনায় একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে বিরোধী শিবির। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ কর্মীও আহত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
এই প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা, যার মধ্যে ছিলেন দেবিনেনি অবিনাশ, আম্বাতি রামবাবু, লেল্লা আপ্পিরেড্ডি এবং পার্নি নানি। ঘটনার পর ওয়াইএসআরসিপি শাসক টিডিপি-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের অভিযোগ তোলে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।
অন্যদিকে, অমরাবতী অঞ্চলের কৃষকদের একাংশ কালো পতাকা দেখিয়ে ওয়াইএসআরসিপি প্রতিনিধিদলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান। “ওয়াইএসআরসিপি গো ব্যাক” স্লোগানে সরব হন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, ওয়াইএসআরসিপি প্রথমে অমরাবতীকে একমাত্র রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিক, তারপর এলাকায় রাজনৈতিক সফরে আসুক।
বিক্ষোভকারী কৃষক ও স্থানীয় মহিলারা উন্ডাভল্লি সেন্টারে ওয়াইএসআরসিপির কনভয় আটকে দেন। তাঁদের অভিযোগ, অমরাবতী ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে বিরোধী দল।
টিডিপি এবং আন্দোলনরত কৃষকদের একাংশের দাবি, এই সফর সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যদিও ওয়াইএসআরসিপির বক্তব্য, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সমস্যার কথা শোনাই ছিল তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের অমরাবতী ভূমি বিতর্ক রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।