ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সরকারি স্তরে সম্পর্ক কার্যত স্থগিত থাকলেও, শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় অনুষ্ঠিত এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে এই বৈঠককে কোনওভাবেই সরকারি সংলাপ হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি কলম্বোয় অনুষ্ঠিত এক আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে ভারত ও পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক, কূটনীতিক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে দু’দিনব্যাপী একটি ‘ট্র্যাক-টু’ বৈঠক হয়। এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় International Institute for Strategic Studies-এর সম্মেলনের পার্শ্ব অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে।
ভারতের তরফে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান M. M. Naravane, Ram Madhav এবং প্রাক্তন কূটনীতিক Ruchi Ghanashyam। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক Sajjad Haider Khan, প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত Sherry Rehman এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল Isfandiyar Ali Khan Pataudi।
জানা গিয়েছে, সীমান্ত সন্ত্রাস, জলবণ্টন, উত্তেজনার সময়ে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে সামরিক সংঘাত এড়ানোর মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও এই বৈঠক থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বা সমঝোতা হয়নি।
এদিকে, বৈঠক নিয়ে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের বিদেশ সচিব Vikram Misri স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের বৈঠকের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই।
তাঁর কথায়, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এ ধরনের বহু ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এগুলির সঙ্গে ভারতের সরকারের কোনও সরকারি যোগ নেই। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরেন, তাঁরা সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন না।”
তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের বৈঠককে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেয় না। ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত—সন্ত্রাস ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জেরে ভারত-পাক সম্পর্ক আরও তলানিতে পৌঁছায়। সেই আবহেই কলম্বোর এই অনানুষ্ঠানিক বৈঠক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিলেও, নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে—এটি কোনও সরকারি সংলাপ নয়, বরং ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনানুষ্ঠানিক আলোচনা।