লাতিন আমেরিকার অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী থাকল ভেনেজুয়েলা। পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১,৪৫০। এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বহু মানুষ। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের।
গত বুধবার সন্ধ্যায় ভেনেজুয়েলায় পরপর ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস সংলগ্ন উপকূলবর্তী অঞ্চল এবং লা গুয়াইরা শহর। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মোট ৭৭৪টি ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ১৮৯টি বহুতল সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
উদ্ধারকারী দল এখনও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স ও আমেরিকার যৌথ উদ্ধারকারী দল রবিবার কারাবাল্লেদা এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তি এবং তাঁর কিশোর পুত্রকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই উদ্ধারকাজ বিপর্যস্ত মানুষের মধ্যে সামান্য হলেও আশার সঞ্চার করেছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকেই জীবিত উদ্ধারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এখন ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা অধিকাংশ মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক, উদ্ধারকর্মী এবং সাধারণ মানুষ একযোগে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে বহু জায়গায় খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজ আত্মীয়দের খোঁজ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন তিন হাজারেরও বেশি মানুষ। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানীয় জল, খাদ্য, চিকিৎসা ও স্যানিটেশনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ এখন মৌলিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে, বিপর্যস্ত লা গুয়াইরা শহরের একাধিক এলাকায় লুটপাটের ঘটনাও সামনে এসেছে, যা প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ যত এগোবে, মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেকটাই বৃদ্ধি পেতে পারে।