ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে স্থগিত থাকা *সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty)* নিয়ে ফের উত্তেজনা বাড়ল। এবার প্রকাশ্যেই কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী *মুসাদিক মালিক*। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের প্রাপ্য পানি আটকে দেওয়ার যে কোনও প্রচেষ্টার কড়া জবাব দেওয়া হবে।
পাকিস্তানে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারতের হাতে নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে এবং সেটি ব্যবহার করে পাকিস্তানের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর বক্তব্য, দেশের বড় অংশের মানুষ কৃষিনির্ভর হওয়ায় পানির প্রশ্নটি পাকিস্তানের জন্য অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত।
মন্ত্রী আরও বলেন, পাকিস্তান আগেই স্পষ্ট করেছে যে, তাদের ন্যায্য পানির অংশে হস্তক্ষেপ করা হলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও বিদ্যমান চুক্তির ভিত্তিতেই ইসলামাবাদ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে বলেও জানান তিনি।
একই সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী *আতাউল্লাহ তারার* দাবি করেন, *১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি* একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার অধিকার কোনও পক্ষের নেই। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই চুক্তি এখনও কার্যকর এবং পাকিস্তান তার অধিকার রক্ষায় সব ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেবে।
অন্যদিকে, ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত। *পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার* পর নয়াদিল্লি সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ভারতের স্পষ্ট বার্তা— সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত চুক্তি পুনর্বহালের প্রশ্নই ওঠে না।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী *সি. আর. পাটিল*ও জানিয়েছেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের প্রাপ্য সিন্ধু নদী ব্যবস্থার জল সম্পূর্ণভাবে দেশের স্বার্থে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ভারতের অংশের এক ফোঁটা জলও পাকিস্তানে যেতে দেওয়া হবে না।