*আগরতলা:* ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার নলছড়া বিধানসভার অন্তর্গত লক্ষ্ণণঢেপা দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট এবং এক শিক্ষকের বদলির নির্দেশকে কেন্দ্র করে *বুধবার* তীব্র বিক্ষোভে সামিল হলেন ছাত্রছাত্রীরা। বিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করেন পড়ুয়ারা। এর জেরে দিনের স্বাভাবিক পঠনপাঠন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনরত পড়ুয়াদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে মোট ২২৬ জন শিক্ষার্থী থাকলেও স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৬ জন। দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। এরই মধ্যে আরও এক শিক্ষককে অন্যত্র বদলির নির্দেশ জারি হওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থা আরও সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
বিশেষ করে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির প্রায় ৬৪ জন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একাধিকবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখনও পর্যন্ত সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই আন্দোলনের পথে নামতে হয়েছে বলে দাবি পড়ুয়াদের। বিদ্যালয়ের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে স্লোগান দেন তাঁরা।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, অবিলম্বে বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে এবং সম্প্রতি জারি হওয়া বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
অভিভাবকদের একাংশও পড়ুয়াদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত সমস্যা সমাধান না হলে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
ঘটনার জেরে বুধবার বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এখন শিক্ষক সংকট নিরসন এবং বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষা দপ্তর কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।