*আগরতলা:* রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানালেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। তাঁর মতে, বর্তমান স্বাস্থ্য পরিষেবার বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার প্রভাব ইতিমধ্যেই সাধারণ রোগীদের উপর পড়তে শুরু করেছে।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মানিক সরকার বলেন, কোনও নীতি গ্রহণের আগে তার বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সেই বিষয়টি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে তাঁর মনে হয় না।
তিনি দাবি করেন, গত কয়েকদিন ধরে আগরতলার জিবিপি হাসপাতাল এবং আইজিএম হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছে। প্রতিদিন বহু রোগী ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিকিট কাউন্টারের সামনে অপেক্ষা করছেন। এরপরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মানিক সরকারের বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগের নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। সেই সময়ের মধ্যেই চিকিৎসকদের রোগী দেখতে হয়। ফলে বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপ সামলানো অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বহু রোগী চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা না করেই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সময়মতো চিকিৎসা না পেলে অনেক রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতির দায়ভার কে নেবে— সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে সরকারি ডিউটি শেষ হওয়ার পর চিকিৎসকেরা ব্যক্তিগতভাবে রোগী দেখলে বহু সাধারণ মানুষ তার সুবিধা পেতেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তাঁর মতে, প্রাইভেট প্র্যাকটিস সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে সেই রোগীরাই এখন সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীর চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
মানিক সরকার বলেন, সরকার যে কোনও নীতি গ্রহণ করবে, তা অবশ্যই বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করেই হওয়া উচিত। তাই চিকিৎসকদের ডিউটি-পরবর্তী ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে দেরি না করে সরকার যেন দ্রুত সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা করে এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যাতে একদিকে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা ব্যাহত না হয় এবং অন্যদিকে সাধারণ রোগীরাও চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।
এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপেরও আহ্বান জানান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।