*আগরতলা:* আগরতলার জিবি হাসপাতালে চিকিৎসা না পাওয়ার আশঙ্কায় এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার আর্তনাদের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয় তৎপরতা। পরে চিকিৎসকদের হস্তক্ষেপে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক সুস্থ পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে। বর্তমানে মা ও নবজাতক—দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাটি সামনে আসে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। জিবি হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার চিকিৎসার আবেদন জানিয়ে করা একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জানা যায়, মহিলার নিজের কাছে কোনও মোবাইল ফোন ছিল না। হাসপাতালেই উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁর অসহায় অবস্থার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন।
ভিডিওটি নজরে আসার পর রাতেই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক জিবি হাসপাতালে পৌঁছান। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।
পরদিন, অর্থাৎ বুধবার সকালে প্রায় ১০টা নাগাদ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই মহিলার একটি সুস্থ পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মা ও নবজাতক উভয়ের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
পরবর্তীতে প্রতিমা ভৌমিক বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দেখেই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি হাসপাতালে ছুটে যান। চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে রোগীর দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।
তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি ভিডিওটি ধারণ করে বিষয়টি সকলের নজরে এনেছেন, তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয়। পাশাপাশি রোগীর চিকিৎসায় দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রতিমা ভৌমিক জানান, ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলার স্বামী বর্তমানে নিখোঁজ এবং পরিবারের অন্য কোনও সদস্য তাঁর সঙ্গে ছিলেন না। একজন আশা কর্মী মানবিক উদ্যোগ নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন। সেই আশা কর্মীর ভূমিকাকেও তিনি বিশেষভাবে প্রশংসা করেন।
ডক্টরস ডে উপলক্ষে তিনি রাজ্যের সমস্ত চিকিৎসকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, চিকিৎসকেরা মানুষের জীবন বাঁচাতে যে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন, তার জন্য সমাজ তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।
এদিকে সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমা ভৌমিক সরাসরি কোনও মন্তব্য না করে বলেন, এই সিদ্ধান্ত যাঁরা নিয়েছেন, তাঁরাই বলতে পারবেন এর ফলে সাধারণ মানুষ কতটা উপকৃত হবেন।