*আগরতলা, বুধবার:*
গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও জীবিকার মানোন্নয়নে কেন্দ্র সরকারের নতুন কর্মসূচি *‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ (VBG-RAMG)*-এর জেলা স্তরের শুভ সূচনা হল আগরতলার নজরুল কলাক্ষেত্রে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিঙ্কু রায়, প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী টিঙ্কু রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর *‘বিকশিত ভারত-২০৪৭’* লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের পথে এই কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের উদ্যোগে চালু হওয়া এই প্রকল্প গ্রামীণ কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং চাহিদাভিত্তিক করে তুলবে।
মন্ত্রী জানান, একই দিনে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা সরকারি সফরে রাজ্যের বাইরে থাকায় তাঁর নির্দেশেই তিনি পশ্চিম জেলার অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
নতুন প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য একাধিক সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। এমজিএনরেগার দৈনিক মজুরি *২৫৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা* করা হয়েছে। পাশাপাশি বছরে নিশ্চিত কর্মদিবস *১০০ দিন থেকে বৃদ্ধি করে ১২৫ দিন* করা হয়েছে। এতে গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের আয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রশাসনিক ব্যয় *৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ* করা হয়েছে। পাশাপাশি ত্রিপুরার জন্য প্রথম পর্যায়ে *১,০৪১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা* বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক।
মন্ত্রী টিঙ্কু রায় বলেন, বিরোধীরা দাবি করেছিল নতুন প্রকল্প চালু হলে বরাদ্দ কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে বরাদ্দ কমেনি, বরং আগের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
নতুন মিশনের আওতায় *‘প্রগতি পোর্টাল’* ব্যবহার করে গ্রামের প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে উন্নয়নমূলক প্রকল্প নির্বাচন ও বাস্তবায়ন করা হবে। এই কর্মসূচিতে জল সংরক্ষণ, জীবিকা বৃদ্ধি, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, রাস্তা নির্মাণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মন্ত্রী দাবি করেন, VBG-RAMG কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং ত্রিপুরায় কর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে