আগরতলা রেলস্টেশনে ডিআরআই-এর বড়সড় অভিযান, উদ্ধার ৬.৫৪ কোটি টাকার কোডিনযুক্ত কফ সিরাপ

আগরতলা রেলস্টেশনে ডিআরআই-এর বড়সড় অভিযান, উদ্ধার ৬.৫৪ কোটি টাকার কোডিনযুক্ত কফ সিরাপ

admin
3 Min Read

*আগরতলা | বুধবার*

ত্রিপুরায় মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তর (DRI)। আগরতলা রেলস্টেশনে একটি মালবাহী রেল ভ্যান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ কোডিন-ভিত্তিক নেশাজাতীয় কফ সিরাপ। উদ্ধার হওয়া কফ সিরাপের আনুমানিক বাজারমূল্য *৬ কোটি ৫৪ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯৮৯ টাকা* বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, *২৫ জুন ২০২৬* কাটিহার থেকে *PW Bill No. 198284-এর মাধ্যমে সাধারণ পণ্য হিসেবে বুক করা একটি মালবাহী ভ্যান (VPH No. NR 094527) **৩০ জুন রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে* আগরতলা রেলস্টেশনে পৌঁছায়। পরে রাত *১১টা ৫৫ মিনিটে* সেটিকে আনলোডিংয়ের জন্য ১৩ নম্বর লাইনে রাখা হয়।

এরপর *১ জুলাই ভোর ৩টার দিকে* ডিআরআই-এর আগরতলা আঞ্চলিক ইউনিটের কাছে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য আসে যে ভ্যানটিতে নিষিদ্ধ মাদকজাতীয় সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ডিআরআই, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) এবং রেল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে যৌথ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।

তল্লাশিতে ভ্যানের ভেতর থেকে মোট *৮৯টি লোহার ড্রাম* উদ্ধার হয়। এর মধ্যে *৮০টি ড্রামের ভিতরে সাদা রঙের পাউডারের আড়ালে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ছিল ৫৫ হাজার ৬২৬ বোতল (প্রতি বোতল ১০০ মিলিলিটার) কোডিনযুক্ত ESKuf ও Fairdyl কফ সিরাপ।* বাকি ৯টি ড্রামে শুধুমাত্র সাদা পাউডার পাওয়া যায়।

ডিআরআই জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে গণনা ও জব্দের কাজ শেষে *২ জুলাই সকাল ৭টায়* পুরো অভিযান সম্পন্ন হয়। এরপর সমস্ত কফ সিরাপ আইনানুগভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে খোয়াই জেলার কল্যাণপুর এলাকার বাসিন্দা এবং *বিএকে এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার ৩৪ বছর বয়সী সুব্রত দেব*-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি ওই চালান গ্রহণ করতে রেলস্টেশনে এসেছিলেন।

ডিআরআই এই ঘটনায় *DRI Case No. 03/CL/NDPS/DRI/AGT/2026-27* নথিভুক্ত করেছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই চালানের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্র জড়িত থাকতে পারে। এই চক্রের অন্যান্য সদস্য, মাদকের গন্তব্য এবং অর্থের লেনদেনের উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি জিরানিয়া এলাকায় একটি রেল ওয়াগন থেকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনার পর আবারও আগরতলা রেলস্টেশনকে ব্যবহার করে নেশাজাতীয় সামগ্রী পাচারের চেষ্টা সামনে এল। ফলে রেলপথকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হবে এবং এ ধরনের পাচারচক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হবে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *