*তেহরান:* প্রায় চার মাস আগে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়ার পর অবশেষে ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। শুক্রবার তাঁর মরদেহ তেহরানে পৌঁছেছে। শনিবার মূল জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে ইরান সরকার।
ইরানি প্রশাসনের দাবি, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তাজনিত চরম ঝুঁকির কারণেই এতদিন শেষকৃত্য আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। রাজধানী তেহরান ছাড়াও কোম, মাশহাদ এবং ইরাকের একাধিক শহরে তাঁর স্মরণে পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের মতে, এই শেষকৃত্যে কয়েক কোটি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা, কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদেরও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘারিটা প্রতিনিধিত্ব করবেন।
খামেনেইর কফিন ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো অবস্থায় রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কালো পোশাক পরিহিত হাজার হাজার মানুষ ইতিমধ্যেই সেখানে জড়ো হয়েছেন। পুরো এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে দাবি উঠেছিল, নিরাপত্তার কারণে খামেনেইর মরদেহ অস্থায়ীভাবে গোপন স্থানে সমাহিত করা হয়েছিল। তবে ইরান সরকার সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, মরদেহ রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হয়েছিল এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই জনসমক্ষে শেষকৃত্য পিছিয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষদিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানে খামেনেই নিহত হন বলে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। এরপর কয়েক মাস ধরে সংঘাত চলার পর সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আয়োজন করা হচ্ছে।