*নয়াদিল্লি:* পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে *সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty)* সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে ভারত। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান ধারাবাহিক আপত্তি জানালেও, ভারতের প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক মহলের একাংশের দাবি—জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা স্থগিত রাখার নজির বিশ্বের বড় শক্তিগুলিও বহুবার তৈরি করেছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু জল চুক্তি সংশোধন, বাতিল বা স্থগিত করতে পারে না। তবে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আইনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল *পি. আর. শঙ্কর* সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেমন *২০১৮ সালে ইরান পরমাণু চুক্তি (JCPOA)* থেকে সরে এসেছিল, রাশিয়া যেমন *INF Treaty* থেকে বেরিয়ে আসে এবং চিন যেমন *দক্ষিণ চিন সাগর* নিয়ে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায় মানেনি, তেমনই ভারতও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সিন্ধু জল চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার অধিকার রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তবতায় বড় শক্তিগুলি বহু ক্ষেত্রেই কৌশলগত ও নিরাপত্তাজনিত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রেও সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সামনে রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের মত।
### সিন্ধু জল চুক্তি কী?
১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার ছয়টি নদীর জল দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা হয়।
ভারত ব্যবহার করে *রাভি, বেয়াস ও শতদ্রু* নদীর অধিকাংশ জল। অন্যদিকে *সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব* নদীর প্রধান ব্যবহারিক অধিকার পায় পাকিস্তান। তবে ওই নদীগুলিতে সীমিত পরিসরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও নির্দিষ্ট উন্নয়নমূলক কাজ করার অধিকার ভারতের রয়েছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তান-সমর্থিত সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পর সরকার সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ভারতের অবস্থান, জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার স্বার্থই এই সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।