*জ্বালানি নিরাপত্তায় কূটনৈতিক তৎপরতা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ সফরে বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর; স্বাভাবিক তেল সরবরাহ ফেরানোই মূল লক্ষ্য*

*জ্বালানি নিরাপত্তায় কূটনৈতিক তৎপরতা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ সফরে বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর; স্বাভাবিক তেল সরবরাহ ফেরানোই মূল লক্ষ্য*

2 Min Read

ইরান-আমেরিকা সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। রবিবার থেকে পাঁচ দিনের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাচ্ছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। এই সফরে কাতার, বাহারিন, কুয়েত ও ওমানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এরপর রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও অংশ নেবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্রে জানা গিয়েছে, সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজির সরবরাহকে আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা। গত কয়েক মাসে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতের জ্বালানি আমদানির খরচের উপর। ফলে দেশে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম নিয়ে উদ্বেগও বাড়ে।

জয়শঙ্করের বৈঠকে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই সমুদ্রপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের সময় এই রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গিয়েছিল। ভারত চাইছে, এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকুক এবং জ্বালানি সরবরাহে কোনও বাধা না আসে।

বিদেশমন্ত্রী কাতার, বাহারিন, কুয়েত ও ওমানের বিদেশমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা করবেন। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে এই দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষ করে ১৩ জুলাই নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের অস্থায়ী সদস্যপদের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে যোগ দেবেন এস. জয়শঙ্কর। এরপর ১৪ ও ১৫ জুলাই ব্রাসেলসে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজি কাউন্সিলের বৈঠকে অংশ নেবেন। সেখানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম নিম্নমুখী থাকলে ভবিষ্যতে দেশের সাধারণ মানুষও পেট্রোল ও ডিজেলের দামে স্বস্তি পেতে পারেন। তবে কেন্দ্র সরকার এখনও জ্বালানির দাম কমানো নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *