*কারাকাস:* লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে ভেনেজুয়েলার যুগ্ম ভূমিকম্প। ২৪ জুনের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে *৩,৩৪২-এ* পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন *১৬ হাজার ৭০০-রও বেশি* মানুষ। রাষ্ট্রসংঘের (UN) প্রাথমিক অনুমান, এখনও *প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ* রয়েছেন।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস সংলগ্ন উপকূলীয় *লা গুয়াইরা* অঞ্চল। সেখানে শতাধিক বহুতল ভবন ও অসংখ্য বাড়িঘর ধসে পড়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলির দীর্ঘদিনের তল্লাশি অভিযান কার্যত শেষ হওয়ার পর এখন শুরু হয়েছে মৃতদেহ শনাক্তকরণ ও গণসমাধির কাজ।
লা গুয়াইরার *লা এসপেরানজা কবরস্থানে* পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন *১৫০-রও বেশি মৃতদেহ* পৃথক কবর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কবরেই ২৪ জুন, ২০২৬-কে মৃত্যুর দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও কবর তৈরির জন্য ভারী যন্ত্র দিয়ে কাজ চলছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় *২০০টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। এতে **১৭ হাজারেরও বেশি মানুষ গৃহহীন* হয়ে পড়েছেন। তাঁরা এখন ত্রাণশিবির ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে হাজার হাজার পরিবার এখনও ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে। বহু মানুষ উদ্ধারকাজ শেষ হলেও ঘটনাস্থল ছাড়তে নারাজ। তাঁদের আশা, হয়তো এখনও কোনও অলৌকিকভাবে জীবিত অবস্থায় প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়া যেতে পারে।
ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। রাষ্ট্রসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে *প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের* ক্ষতি হয়েছে, যা দেশটির মোট জিডিপির প্রায় *৬ শতাংশ*। রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
উদ্ধারকাজে বিলম্ব এবং সরকারি তৎপরতা নিয়ে শুরুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বহু বাসিন্দা। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানিয়েছে, হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী, সেনা ও সরকারি কর্মীকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হয়েছে।
দেশজুড়ে বিভিন্ন গির্জা ও উপাসনালয়ে নিহতদের স্মরণে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। শোক, অনিশ্চয়তা এবং স্বজন হারানোর বেদনার মধ্যেই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন ভেনেজুয়েলার মানুষ।