*জাকার্তা:* তিন দিনের সরকারি সফরে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান *‘বিনতাং আদিপূর্ণ’ (Bintang Adipurna)-এ সম্মানিত হলেন প্রধানমন্ত্রী **নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট **প্রাবোও সুবিয়ান্তো* এই সম্মান প্রদান করেন। দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বন্ধুত্ব, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে মোদির ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
সম্মান গ্রহণের পর ইন্দোনেশিয়ার সংসদে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারত সবসময় শান্তি, উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নীতিতে বিশ্বাসী। কোনও দেশের উপর আধিপত্য নয়, বরং যৌথ অগ্রগতিই ভারতের কূটনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি।
ভারত-ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতি, বাণিজ্য এবং মানুষের যোগাযোগ এক অনন্য বন্ধন তৈরি করেছে। তাঁর কথায়, *“সমুদ্র কখনও আমাদের আলাদা করেনি, বরং দুই দেশকে আরও কাছাকাছি এনেছে।”*
ইন্দোনেশিয়ার মানুষ এবং সরকারের উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সফর তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। বিশেষ করে শিশু ও সাধারণ মানুষের আন্তরিক অভ্যর্থনা তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি আরও বলেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার বন্ধুত্ব কোনও নির্দিষ্ট সময় বা পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল নয়। এই সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী হবে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে প্রতিনিধি-স্তরের বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, শিক্ষা, ডিজিটাল সহযোগিতা, সংস্কৃতি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।