ইন্দোনেশিয়া সফরে কূটনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও বিশেষ গুরুত্ব দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যোগ্যাকার্তার কাছে অবস্থিত প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো প্রাম্বানান হিন্দু মন্দির পরিদর্শন করেন তিনি। সফরে এই ঐতিহাসিক মন্দির ঘিরে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগের বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রাম্বানান ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্স এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। নবম-দশম শতকে প্রাচীন মাতারাম সাম্রাজ্যের সঞ্জয় রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত এই মন্দির হিন্দু ত্রিমূর্তি—শিব, বিষ্ণু ও ব্রহ্মাকে উৎসর্গ করে গড়ে তোলা হয়। ১৯৯১ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দেয়।
মন্দিরের মূল আকর্ষণ প্রায় ৪৭ মিটার উঁচু শিব মন্দির, যার চারপাশে রয়েছে বিষ্ণু ও ব্রহ্মার মন্দির। পুরো কমপ্লেক্সে একসময় প্রায় ২৪০টি মন্দির ছিল। এখানকার পাথরের দেয়ালে খোদাই করা রামায়ণের কাহিনি এবং জাভানিজ শিল্পরীতির অনন্য মেলবন্ধন আজও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র।
প্রাম্বানানকে ঘিরে রয়েছে জনপ্রিয় ‘রোরো জংগ্রাং’-এর কিংবদন্তিও। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রাজকুমারী রোরো জংগ্রাংকে অভিশাপ দিয়ে পাথরে পরিণত করা হয়েছিল এবং শিব মন্দিরের দুর্গা মূর্তিকেই সেই রাজকুমারীর প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
যদিও বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ, তবুও প্রাম্বানানের মতো স্থাপত্য আজও দেশটির সমৃদ্ধ হিন্দু ঐতিহ্য ও ভারতীয় সভ্যতার ঐতিহাসিক প্রভাবের সাক্ষ্য বহন করছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর সেই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও জোরদার করার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।