মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরপর তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (UKMTO) জানিয়েছে, সর্বশেষ একটি ট্যাঙ্কার অজ্ঞাত পরিচয়ের মানববিহীন ড্রোন (UAV)-এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও জাহাজটির সামান্য কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং কোনও হতাহতের খবর নেই, সেটি নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
এর আগে কাতারের এলএনজি ট্যাঙ্কার *আল-রেকাইয়াত*, যা ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল, ওমান উপকূলের কাছে হামলার মুখে পড়ে। হামলায় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, একটি প্রজেক্টাইল জাহাজটির বাম দিকে আঘাত হানে, যখন সেটি হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ওমান উপসাগরের দিকে যাচ্ছিল।
কাতারের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল এবং বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার উপর গুরুতর হামলা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এই ঘটনার জন্য কাতার ইরানকে সম্পূর্ণ আইনি দায়ী করছে। ঘটনার জেরে কাতার সরকার ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্রও দিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট এলএনজি ট্যাঙ্কারটি বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল। তবে হামলার দায় সরাসরি স্বীকার করেনি তেহরান।
গত সপ্তাহেই ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব তেলবাহী জাহাজকে তাদের নির্ধারিত রুট অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী হস্তক্ষেপ করলে দ্রুত ও কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয় তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি পরিবহন করিডরে ধারাবাহিক এই হামলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেলের সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে। যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা দেখা দিলেও সাম্প্রতিক ঘটনায় হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ বাড়ল।