# *টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ত্রিপুরা, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি; প্লাবিত একাধিক এলাকা, খোলা হল শরণার্থী শিবির*

# *টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ত্রিপুরা, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি; প্লাবিত একাধিক এলাকা, খোলা হল শরণার্থী শিবির*

2 Min Read

*আগরতলা:* টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে ত্রিপুরার বিভিন্ন জেলায় জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজধানী আগরতলা থেকে শুরু করে ধলাই ও খোয়াই জেলার একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু বাড়িঘরে জল ঢুকেছে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে শতাধিক মানুষকে।

রাজধানী আগরতলায় অবিরাম বৃষ্টির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বটতলা শিবমন্দির সংলগ্ন বাজার ও ফলের দোকানগুলো প্রায় ক্রেতাশূন্য। বৃষ্টির জেরে মানুষ বাড়ির বাইরে না বের হওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে সিএনজি ও ই-অটো চালকরাও যাত্রীর অভাবে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত আয় করতে পারছেন না। টানা বৃষ্টির ফলে হাওড়া নদীর জলস্তরও ক্রমশ বাড়ছে।

অন্যদিকে, ধলাই জেলার মনুঘাট এলাকায় মনু নদীর জল বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছনোর পর ঘতগছো পাড়া প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৩৬টি পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে এবং বহু বাড়িতে কোমরসমান জল ঢুকে পড়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের নিকটবর্তী স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও মনু টাউন হলে নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মনু-ছৈলেংটা এলাকার এমডিসি হলিউড চাকমা, সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত দাসসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, খোয়াই নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলিয়ামুড়া মহকুমার একাধিক ওয়ার্ড ও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শান্তিনগর, দশমীঘাট, নেতাজিনগর, তৃষাবাড়ি, মোহরছড়া ও কল্যাণপুরসহ নদীতীরবর্তী এলাকায় বহু বাড়িতে জল ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতির জেরে আতঙ্কিত বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেলিয়ামুড়া পুরপরিষদ এলাকায় ৭টি শরণার্থী শিবির এবং গ্রামাঞ্চলের জন্য মোহরছড়া স্কুলে আরও একটি শিবির খোলা হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা দল, অগ্নিনির্বাপক বাহিনী এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীতীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে না এলে আগামী কয়েক ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *