*লিবিয়া শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন ভূমিকায় পাকিস্তান? কূটনীতি নাকি প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের কৌশল*

*লিবিয়া শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন ভূমিকায় পাকিস্তান? কূটনীতি নাকি প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের কৌশল*

admin
2 Min Read

*ইসলামাবাদ/ত্রিপোলি:* পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পর এবার উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া ইস্যুতেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানকে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, লিবিয়ার রাজনৈতিক সংকট সমাধানের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের পাশাপাশি পাকিস্তানও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অংশ নিচ্ছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির রাওয়ালপিন্ডিতে লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (LNA) উপ-প্রধান সাদ্দাম হাফতারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে ২০২৫ সালের শেষ দিকে তিনি পূর্ব লিবিয়ার বেঙ্গাজিতেও সফর করেছিলেন। এই বৈঠকগুলিকে ঘিরে পাকিস্তানের নতুন কূটনৈতিক সক্রিয়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

বর্তমানে লিবিয়ায় দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসন কার্যকর রয়েছে। রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ-সমর্থিত সরকার এবং পূর্বাঞ্চলীয় বেঙ্গাজিভিত্তিক প্রশাসনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চলছে। নির্বাচন, সেনাবাহিনীর একীকরণ এবং তেল আয়ের বণ্টন নিয়ে এখনও মতপার্থক্য বজায় রয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, পাকিস্তান ও লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনীর মধ্যে প্রায় *৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের* প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান নির্মিত *JF-17 যুদ্ধবিমান* এবং *সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান* সরবরাহের বিষয় রয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা ২০১১ সালের জাতিসংঘের লিবিয়া অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং অন্যদিকে সংঘাতে জড়িত একটি পক্ষের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, লিবিয়া সংকটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এখনও যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও তুরস্কের মতো দেশগুলির ভূমিকাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান আপাতত সহায়ক অংশীদার হিসেবেই আলোচনায় রয়েছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *