রবিবার ভোরে বঙ্গোপসাগরে ৪.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানায় অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিশাখাপত্তনম শহর-সহ একাধিক জেলায় বাসিন্দারা কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভূমিকম্পের কম্পন টের পান। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি, আহত বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
*ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি রবিবার সকাল **৫টা ৫ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে (IST)* রেকর্ড করা হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল *৪.৫। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বঙ্গোপসাগরে, অন্ধ্রপ্রদেশের **কাকিনাডা উপকূল থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার* দূরে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ভূপৃষ্ঠের প্রায় *১০ কিলোমিটার* গভীরে অবস্থান করছিল, ফলে এটিকে একটি *অগভীর (Shallow) ভূমিকম্প* হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভোরের দিকে অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকলেও বিশাখাপত্তনম শহরের বিভিন্ন এলাকায় কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। বিশেষ করে *গাজুওয়াকা, মঙ্গলাপালেম, সাগর নগর, পেড্ডা ওয়ালটেয়ার, আরিলোভা, এমভিপি কলোনি, আপ্পুঘর-সহ একাধিক এলাকায় বাসিন্দারা কয়েক সেকেন্ডের জন্য কম্পন অনুভব করে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। একই সঙ্গে **আনাকাপল্লি, ভিজিয়ানাগারাম, কাকিনাডা এবং কোনাসীমা* জেলার বিভিন্ন অংশ থেকেও ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
*ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিসেস (INCOIS)* জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি মাঝারি মাত্রার হলেও এর প্রভাব সীমিত ছিল। কারণ উৎপত্তিস্থল ছিল সমুদ্রের গভীরে এবং কম্পনের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কম। ফলে কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করার প্রয়োজন হয়নি।
ভূকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ধ্রপ্রদেশের এই উপকূলবর্তী অঞ্চলটি সাধারণভাবে বড় ধরনের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত নয়। টেকটোনিক প্লেটের স্বাভাবিক নড়াচড়া ও ভূগর্ভস্থ শিলাস্তরের সামঞ্জস্যের ফলেই এই ধরনের মৃদু কম্পন অনুভূত হতে পারে। তাই এই ভূমিকম্প নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, গত বছরও উত্তর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। তখন *আল্লুরি সীতারামারাজু জেলায় ৩.৭ মাত্রার* ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। সেই ঘটনাতেও কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের সঙ্গে সেই ঘটনার সরাসরি কোনও সম্পর্কের প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সমস্ত জেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। বর্তমানে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর নেই এবং জনসাধারণকে গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।