*১৫ ভারতীয়র মৃত্যুর পর উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ; নিহতদের মরদেহ ভারতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে*
ভিয়েতনামের পর্যটনকেন্দ্র ফুকুয়ক (Phu Quoc) দ্বীপের কাছে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক নৌকা দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া ১৬ জন ভারতীয় পর্যটকের মধ্যে ১৫ জন চিকিৎসার পর দেশে ফিরছেন। তবে গুরুতর আহত একজন এখনও ফুকুয়কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভিয়েতনামে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ আহত পর্যটককে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ভারতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। যিনি এখনও হাসপাতালে রয়েছেন, তাঁর চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
শনিবার ফুকুয়ক দ্বীপের দক্ষিণে *হন মে রুট ন্গোয়াই (Hon May Rut Ngoai)* এলাকার কাছে একটি স্পিডবোট দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ওই নৌকায় ৩২ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৪ জন ক্রু সদস্যসহ মোট ৩৬ জন ছিলেন। দুর্ঘটনায় ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে *১০ জন তামিলনাড়ুর, **৩ জন অন্ধ্রপ্রদেশের* এবং *২ জন কেরলের* বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে দু’জন নারীও রয়েছেন বলে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল সব মরদেহ উদ্ধার করেছে। বর্তমানে সেগুলো *হো চি মিন সিটি*তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ ভারতে পাঠানো হবে।
ভারতীয় দূতাবাস এবং হো চি মিন সিটিতে ভারতের কনস্যুলেট ভিয়েতনাম সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত মরদেহ স্বদেশে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে। ভিয়েতনাম প্রশাসনও এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী *লে মিন হাং* দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, যদি কারও গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মেলে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পর্যটকরা একটি দ্বীপ ভ্রমণ শেষে ফেরার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে কী কারণে স্পিডবোটটি দুর্ঘটনার শিকার হয়, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।