শান্তিরবাজার, প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের নিরবচ্ছিন্ন ১২ বছরের সুশাসন, উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের পূর্তি উপলক্ষে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় আয়োজিত হলো তিন দিনব্যাপী বিশেষ জনকল্যাণ শিবির। মঙ্গলবার শান্তিরবাজারের মুকুট অডিটোরিয়াম হলে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। শিবিরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও সাড়া লক্ষ্য করা যায়।
সকাল ১১টায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে হওয়া উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ত্রিপুরার জেলাশাসক মোহাম্মদ সাজ্জাদ পি এবং শান্তিরবাজার মহকুমার মহকুমা শাসক তরুণ কান্তি সরকার। তাঁরা সরকারি পরিষেবা আরও সহজভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এবং জনমুখী পরিষেবার প্রতি প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
শিবির প্রাঙ্গণে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের পক্ষ থেকে একাধিক তথ্য ও পরিষেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। কৃষি, বন, পুলিশ, মোটর ভেহিকেলস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরসহ বিভিন্ন বিভাগের স্টলে সাধারণ মানুষকে সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়।
বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য নাম নথিভুক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। এছাড়াও মাতৃমঙ্গল যোজনা সহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
শিবিরে আগত মানুষজন সরাসরি সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। ফলে বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ এবং প্রয়োজনীয়তা প্রশাসনের নজরে আনার সুযোগ তৈরি হয়। অনেকেই এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ও সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুবিধাভোগীদের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই শিবিরের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে প্রশাসনিক পরিষেবা সহজলভ্য করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি পরিষেবা এক ছাদের নিচে পাওয়ার ফলে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে সরাসরি তথ্য পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিন দিনব্যাপী এই জনকল্যাণ শিবিরের সফল আয়োজনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী সকল নাগরিক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ধন্যবাদ জানানো হয়।