নয়াদিল্লি/আগরতলা প্রতিনিধি:* তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিদ্রোহী সাংসদকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। সূত্রের খবর, লোকসভায় পৃথক গোষ্ঠী গঠনের পরিবর্তে তাঁরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগদানের পথ বেছে নিতে পারেন। ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত আবেদন লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে জমা পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
প্রথমদিকে বিদ্রোহী সাংসদদের পরিকল্পনা ছিল লোকসভার অভ্যন্তরে আলাদা একটি ব্লক গঠন করে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা। তবে সাংবিধানিক ও আইনি জটিলতার সম্ভাবনা সামনে আসতেই সেই কৌশলে পরিবর্তন আনা হয় বলে জানা গেছে। এরপরই একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলে যোগদানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইনের বিষয়টিই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে একীভূত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ আইন কার্যকর হয় না। ফলে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই বিদ্রোহী সাংসদরা একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের ছাতার নিচে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে সামনে এসেছে এনসিপিআই-এর নাম। তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হলেও নির্বাচন কমিশনের নথিভুক্ত রাজনৈতিক দল হওয়ায় বিদ্রোহী সাংসদদের কাছে এটি একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এনসিপিআই-এর সঙ্গে ত্রিপুরারও একটি রাজনৈতিক সংযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলটি কৈলাসহর ও ছামনু কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছিল। যদিও নির্বাচনী সাফল্য না এলেও সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে দলটি।
দলের অন্যতম নেতা জাহাঙ্গীর আলী জানান, এনসিপিআই ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠন গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে। তিনি নিজেও একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তিনি এনসিপিআই-তে যোগ দেন।
তৃণমূলের একাধিক সাংসদের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহাঙ্গীর আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে এবং খুব শীঘ্রই পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিকে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সম্ভাব্য পদক্ষেপকে ঘিরে দিল্লি থেকে শুরু করে রাজ্য রাজনীতিতেও আলোচনা তুঙ্গে। বিরোধী রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দলবদল বাস্তবায়িত হলে তা সংসদের অঙ্কে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
যদিও এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সাংসদদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহল এখন নজর রাখছে পরবর্তী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহের দিকে। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই জল্পনা বাস্তবে রূপ নেবে কি না।