আগরতলা, প্রতিনিধি:* ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করা, স্কুলছুটের হার কমানো এবং নারী শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কন্যাশ্রী সাইকেল বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ত্রিপুরা সরকার। ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে রাজ্যের মোট ৪১ হাজার ৮০০ জন ছাত্রীকে সাইকেল প্রদান করা হবে। সোমবার রাজধানীর শিশুবিহার উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা।
২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে চালু হওয়া কন্যাশ্রী সাইকেল প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল নবম শ্রেণির ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করা। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আর্থিক ও ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে কিশোরীদের শিক্ষার মূল স্রোতে ধরে রাখাই ছিল এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রকল্পের শুরুতে নির্দিষ্ট আয়সীমার পরিবারের ছাত্রীরাই এই সুবিধা পেতেন। তবে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে আয়ের শর্ত সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে সকল যোগ্য নবম শ্রেণির ছাত্রীকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার ছাত্রী সরাসরি উপকৃত হচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রকল্প চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৮৭ জন ছাত্রীর মধ্যে সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের ব্যয় হয়েছে ৮৫ কোটি ৪১ লক্ষ টাকারও বেশি। শিক্ষা ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান পর্যায়ে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪১ হাজার ৮০০ জন ছাত্রীর হাতে সাইকেল তুলে দেওয়া হবে। কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য রাজ্যজুড়ে ৪২টি বিতরণ কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজধানীর শিশুবিহার উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইকেল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বলেন, শিক্ষা একটি উন্নত সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং বিশেষ করে কন্যাশিক্ষাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জনমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করছে। কন্যাশ্রী সাইকেল প্রকল্প সেই উদ্যোগগুলির মধ্যে অন্যতম সফল প্রকল্প বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই প্রকল্প শুধু বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সুবিধা বাড়াচ্ছে না, বরং কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, স্বাধীন চলাচল এবং সামাজিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকার ছাত্রীদের জন্য এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, কন্যাশ্রী সাইকেল প্রকল্পের ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং স্কুলছুটের প্রবণতা কমেছে। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার প্রসার ও কিশোরীদের ভবিষ্যৎ গঠনে এই প্রকল্প ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনেও আরও বেশি সংখ্যক ছাত্রীকে শিক্ষার মূল স্রোতে যুক্ত করতে এবং তাদের স্বনির্ভর করে তুলতে কন্যাশ্রী সাইকেল প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।