প্রথমবার গোমতী মিল্ক কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন পরিদর্শনে রাজ্যপাল, দুগ্ধ শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বারোপ

প্রথমবার গোমতী মিল্ক কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন পরিদর্শনে রাজ্যপাল, দুগ্ধ শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বারোপ

admin
2 Min Read

আগরতলা, প্রতিনিধি: রাজ্যের দুগ্ধ শিল্প ও সমবায়ভিত্তিক অর্থনীতির অগ্রগতি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা নিতে মঙ্গলবার ইন্দ্রনগরস্থিত গোমতী মিল্ক কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন লিমিটেড পরিদর্শন করলেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এই প্রথম কোনও রাজ্যপাল রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ দুগ্ধ সমবায় সংস্থার কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করলেন।

পরিদর্শনকালে রাজ্যপাল সংস্থার দুধ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দুগ্ধজাত পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য গ্রহণ করেন তিনি।

সফরের সময় গোমতী মিল্ক কো-অপারেটিভ ইউনিয়নের আধিকারিক, কর্মচারী এবং সমবায় প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাজ্যপাল। দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে সমবায় ব্যবস্থার অবদান এবং দুগ্ধচাষীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন তিনি।

গোমতী মিল্ক কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে ত্রিপুরার দুগ্ধ শিল্পের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে আসছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার দুগ্ধচাষী এই সমবায় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে তাদের উৎপাদিত দুধ সরাসরি বাজারজাত করার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি দুগ্ধচাষীদের আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দুগ্ধ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কৃষির পাশাপাশি বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে দুগ্ধচাষ বহু পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যপালের সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সফরকালে রাজ্যপাল দুগ্ধ শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং বাজার সম্প্রসারণের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দুগ্ধচাষীদের স্বার্থরক্ষা এবং সমবায় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাজ্যপালের এই সফরের মাধ্যমে রাজ্যের সমবায়ভিত্তিক দুগ্ধ শিল্পের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে একটি বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই খাতের উন্নয়নে প্রশাসনিক ও নীতিগত স্তরে আরও গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে।

সংস্থার আধিকারিকদের মতে, রাজ্যপালের এই পরিদর্শন দুগ্ধচাষী ও সমবায় কর্মীদের উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতে দুগ্ধ শিল্পের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে কর্মী, আধিকারিক এবং দুগ্ধচাষীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *