আট বছর ধরে পরিচয়হীন বাকপ্রতিবন্ধীর পাশে সোনামুড়ার ঈমান, মানবিকতার অনন্য নজির

আট বছর ধরে পরিচয়হীন বাকপ্রতিবন্ধীর পাশে সোনামুড়ার ঈমান, মানবিকতার অনন্য নজির

admin
2 Min Read

*সোনামুড়া:* বয়স আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর। গায়ের রং শ্যামবর্ণ। নিজের পরিচয় দেওয়ার মতো ভাষা নেই, নেই কোনো পরিচয়পত্র বা আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ। দীর্ঘদিন ধরে সোনামুড়া মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতেন এক বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি। স্থানীয়দের দেওয়া খাবারই ছিল তার বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা।

মোটরস্ট্যান্ড এলাকার বহু মানুষের কাছে তিনি পরিচিত মুখ হলেও, তার দায়িত্ব নেওয়ার মতো কেউ ছিলেন না। দিনের পর দিন কখনও না খেয়ে, কখনও মানুষের দয়ায় পাওয়া খাবারে জীবন কাটিয়েছেন তিনি। তবে অভাব-অনটনের মধ্যেও তার বিরুদ্ধে কখনও কোনো অসামাজিক বা অসৎ আচরণের অভিযোগ ওঠেনি।

প্রায় আট বছর আগে এই অসহায় মানুষটির জীবনে আসে এক বড় পরিবর্তন। সোনামুড়া মোটরস্ট্যান্ডের প্রবেশপথে ব্যবসা করা আড়ালিয়া এলাকার বাসিন্দা ঈমান হোসেন সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে ওই ব্যক্তির দেখভালের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বর্তমানে ঈমান হোসেনই এই বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছেন। প্রতিদিন নিয়মিত স্নান করানো, খাবারের ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে তার সার্বিক যত্ন নিচ্ছেন তিনি। ব্যস্ত মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

শুধু দৈনন্দিন যত্নেই থেমে থাকতে চান না ঈমান হোসেন। তিনি এই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় এবং পরিবারের সন্ধান পাওয়ার জন্যও নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর আবেদন, যদি কেউ এই ব্যক্তিকে চিনতে পারেন বা তার পরিবারের কোনো খোঁজ জানেন, তাহলে যেন দ্রুত যোগাযোগ করেন, যাতে দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদের অবসান ঘটিয়ে তিনি আবার নিজের পরিবারে ফিরতে পারেন।

বর্তমান সময়ের স্বার্থকেন্দ্রিক সমাজে ঈমান হোসেনের এই উদ্যোগ মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে এসেছে। স্থানীয়দের আশা, শীঘ্রই এই পরিচয়হীন ব্যক্তির পরিবারের সন্ধান মিলবে এবং তিনি ফিরে পাবেন নিজের আপন ঠিকানা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *